দুই উপদেষ্টা সতর্ক করে বললেন, হুটহাট যেন জামিন না হয়, সাবধান থাকুন।

 দুই উপদেষ্টা সতর্ক করে বললেন,

হুটহাট যেন জামিন না হয়, সাবধান থাকুন।

দুই উপদেষ্টা সতর্ক করে বললেন, হুটহাট যেন জামিন না হয়, সাবধান থাকুন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টাকারী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীরা যাতে সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে পুলিশ ও আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা। একইসঙ্গে, তারা জামিন পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের যাতে সহজে জামিন মিলে, সেটিও নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইনজীবীদের প্রতি আমার অনুরোধ, আদালতে দায়েরকৃত প্রতিটি মামলার শুনানির তারিখে উপস্থিত থাকুন। প্রসিকিউটিং এজেন্সির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন। কোনোভাবেই যেন কোনো সন্ত্রাসী জামিন না পায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন।


এ সময় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “পতিত ফ্যাসিস্টরা লাখ লাখ কোটি টাকা খরচ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। হুটহাট কাউকে জামিন দেওয়া যাবে না। তবে, যারা জামিন পাওয়ার যোগ্য, তাদের জামিন থেকে বঞ্চিত করাও যাবে না। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যেন জামিন নিয়ে বের হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।


দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও জামিন পেয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন সরকারের দুই উপদেষ্টা।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগবিষয়ক কর্মশালা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে তিনটি পর্বে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। পরবর্তী দুই পর্বে মানবাধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ, আইন প্রয়োগ, মামলা দায়ের ও তদন্তে যথাযথ আইনের প্রয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দেশব্যাপী চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাসী ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। তিনি জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান পুলিশ সদর দপ্তরের ‘জয়েন্ট অপারেশন সেন্টার’ থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে যথাক্রমে পুলিশ কমিশনার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা এ কার্যক্রম তদারকি করছেন।


আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক কাজকর্মের মাধ্যমে মব-তন্ত্র (সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা) কমানোর উপর জোর দেন।
গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবাধিকার রক্ষা করেই পুলিশিং কার্যক্রম চালানো সম্ভব।


কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.